শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
✆ন্যাশনাল কল সেন্টার:৩৩৩| স্বাস্থ্য বাতায়ন:১৬২৬৩|আইইডিসিআর:১০৬৬৫|বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন:০৯৬১১৬৭৭৭৭৭
সংবাদ শিরোনাম
গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে শিল্প উৎপাদনে ধস, সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি বোয়ালখালীতে এসএসসি ফলাফলে শীর্ষস্থানে সৈয়দপুর নুর কাশেম একাডেমি বোয়ালখালীতে বিএনপি নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার ওমর বিন নুরুল আবছার এর কবর জিয়ারত প্রবাসীদের অবদানে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ: মক্কায় ডায়মন্ড সিমেন্টের মতবিনিময় সভায় -এনামুল হক এমপি ধোরলা মুক্তি সংঘে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবালের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত রাজনীতি আমার কাছে প্রতিহিংসার নয়, মানুষের সেবার একটি দায়িত্ব : ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়ে পুনরায় কটুক্তি করা হলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চলবে : ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আপনাদের সহযোগিতা পেলে অতি বৃষ্টিতে আমুচিয়াবাসীর কষ্ট লাগবে দ্রুত ব্যবস্থা নেব :চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন বোয়ালখালীর আমুচিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেনের নিজ উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ দুর্যোগকালীন সময়ে শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদলের সিয়াম

ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ: লেখক, সমাজসেবক ও মানবিক চিকিৎসকের কথা

ছবি: ডা সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...


মিনহাজুল ইসলাম মাসুম:
‘চিকিৎসকের ফিস ৩০০/- (তিন শত) টাকা। যারা এই ফিস দিসে সক্ষম নন, তারা সেভাবে দিবেন। ফিস দিলে ঔষধ কিনতে পারবেন না এরকম হলে চিকিৎসককে বলে যাবেন।’ এ কথাগুলো তাঁর চেম্বারে বড় করে লেখা রয়েছে। তিনি সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদ। পেশায় একজন চিকিৎসক। একজন রত্মগর্ভার মায়ের সন্তান।


তাঁর জন্ম, পারিবারিক ও শিক্ষা জীবনজন্ম কর্ণফুলীর তীরে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার আকুবদন্ডী গ্রামে ১৯৫৭ সালের ১ মে। পিতার নাম এ.এফ.এম.ফারুক এবং মাতার নাম রওশন আকতার। তিনি ১৯৭৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস.এস.সি ও ১৯৭৭ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি কুমিল্লা বোর্ড থেকে মেধা তালিকায় স্থানসহ উত্তীর্ণ হন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। ১৯৯৪ সালে ঢাকার আই.সি.পি.জি.এম.আর. থেকে সি.সি.এইচ এবং বি.পি.এস থেকে এম.সি.পি.এস ডিগ্রি লাভ করেন।

স্ত্রী জোবেদা ওয়াজেদ, এক ছেলে ও দুই মেয়ের নিয়ে ‘চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকা’য় বসবাস করছেন। সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদের বড় ভাই ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বাংলা একাডেমীর সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। তিনিও প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক ও সুসাহিত্যিক। অন্যান্য ভাইয়েরাও পেশাগত জীবনে স্ব স্ব মহিমায় অনন্য। বোয়ালখালীর সম্ভ্রান্ত পরিবার হিসেবে সবার কাছে ডাক্তার বাড়ি হিসেবে সুপরিচিত। তাঁর পিতা স্থানীয় হাজির হাটে ‘ইকবাল পার্ক’ নামে একটি ডাকঘর গড়ে তুলেন।
তাঁর পেশাগত জীবন :
পেশাগত জীবনের প্রথম দিকে তিনি ছয় বছর মহাকবি শেখ সাদী (রহ.) ও আল্লামা রুমি (রহ.)-এর দেশ ইরানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে শুধুমাত্র চিকিৎসক বলার চেয়ে একজন আপাদমস্তক মানবতার সেবায় নিয়োজিত ফুলটাইম আদর্শ চিকিৎসক বলা যায়। তিনি একজন নিঃস্বার্থ, পরোপকারী ও মানবদরদী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ
হিসেবে খ্যাত। চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানার চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় নিজস্ব ভবনের নিচতলায় নিয়মিত চেম্বার করেন। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারাদিন তিনি রোগী দেখে থাকেন। জন্মস্থান বোয়ালখালীতেও সপ্তাহের শুক্রবার তিনি নিয়মিত রোগী দেখেন। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে প্রায়শঃই কলাম লিখে থাকেন।
মানবতার কল্যাণে সদা তৎপর তিনি:
‘জমিনে যারা বসবাস করে, তাদের উপর দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন তিনিও তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আল্ হাদিস-আবু দাউদ ও তিরমিযী) ‘সবোর্ৎকৃষ্ট মানুষ সে, যে মানুষের কল্যাণের চেষ্টা করে।’ (আল হাদিস) ধমর্ীয় শিক্ষামূলক এ নীতিবাক্যগুলো মেনে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি নিখরচা পূণার্ঙ্গ বহুমুখী বেসরকারি সমাজসেবা সংস্থা ‘মাতৃ ও শিশুকল্যাণ সংস্থা’ বোয়ালখালীর কালুরঘাট ব্রিজের পূর্বপাশে। সেখানে বিনামূল্যে ট্রেনিং দেওয়ায় হয় গর্ভবতী মায়ের জন্য ধাত্রীর এবং শিশুদের সেবায় নার্সদেরকে। এ সমাজে এমন সোনার মানুষ বড়ই বিরল। অনাড়ম্বর, নিলোর্ভ, পরোপকারী ও মানবদরদী মানুষের প্রত্যক্ষ উদাহরণ ডা. ওয়াজেদ সাহেব। একজন গুণমুগ্ধ অভিভাবক মহসিন কাজীর ভাষায়,
‘তাঁর চেম্বারে প্রচুর রোগীর ভীড় লক্ষ্য করা যায়। শহর এবং শহরতলী, মফস্বল এলাকা থেকেও প্রচুর রোগী আসেন চেম্বারে। সিরিয়াল দেয়া থেকে শুরু করে রোগীর চিকিৎসা পর্যন্ত সবকিছুতে একটি নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সেবা দেওয়া হয়। শিশুদেরকে যথেষ্ট সময় নিয়ে দেখেন তিনি। অভিভাবক থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে রোগ এবং রোগীর বিশদ জেনে নিতে চেষ্টা করেন ধৈর্যসহকারে। শিশুদের আদর-মমতা দিয়ে চিকিৎসা দেয়া যে ক’জন ডাক্তার দেখা যায়, তাদের মধ্যে ডা. ওয়াজেদ সাহেবও একজন। গরীব, অস্বচ্ছল শিশুর অভিভাবকদের জন্য নির্দিষ্ট ফি’র উপর ছাড় দেয়ার কথা তিনি দেয়ালে কাগজ দিয়ে লিখে রেখেছেন। পাশাপাশি কেউ ওষুধ কিনতে সক্ষম না হলে, তবে তাকেও আর্থিকভাবে তিনি সহায়তা করেন। অনিয়ম, সুনীতিবোধের অভাব ও শত অব্যবস্থাপনার মাঝেও সমাজে কিছু ভালো, আর নীতিবান মানুষ নীরবে সততা এবং মানবিকতারচর্চা করে যাচ্ছেন। সম্পদের পাহাড় বানানোর প্রতিযোগিতাকে পাশ কাটিয়ে মানবতার কল্যাণেরত এই মানুষগুলোকে দেখলে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় প্রাণটা ভরে যায়।’
তাঁর সাহিত্যচর্চা :
কাজের ফাঁকে তিনি শিশুদের নিয়ে চিন্তা করেন। তাদের মা, নবজাতকদের সুস্বাস্থ্য, তাদের বেড়ে উঠা, তাদের মানস গঠন, তাদের শিক্ষা ও সময়মত টিকা দেয়া ইত্যাদি নিয়ে নিরন্তন ভাবেন। অভিভাবক ও শিশুদের কথা চিন্তা করে তিনি ডা. এখলাসুর রহমানের সাথে যৌথভাবে রচনা করেন ‘শিশুদের সহজ স্বাস্য কথা’ (১৯৯৭) নামের বই। শিশুদের নিয়ে তাঁর আরও কয়েকটি বই আছে। সেগুলো হলো: ‘শিশুর পরিবেশ ও অসুস্ শিশুর ঘরোয়া পরিচর্যা’ (১৯৯৯); ‘শিশুর খাবার’ (১৯৯৯); ‘গর্ভবতী মা ও শিশুর স্বাস্য প্রসঙ্গ’ (১৯৯৯); ‘স্কুলে শিশুরা মানুষ হোক’ (১৯৯৯); এবং Ges school health program (১৯৯৯)। করোনাকালীন সময়ে তিনি সরকারের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। নানা সময় তিনি দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্ নিয়ে বহু লিখা লিখেছেন জাতীয় ও স্ানীয় পত্র-পত্রিকায়। সেগুলোর সংকলন আকারে প্রকাশিত হয়েছে ‘করোনায় আমাদের শিক্ষা’ (২০২১) বই। তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে করোনা মহামারী রোধে ব্যাপক ভূমিকা সরাসরি পালন করেছেন। দেশ থেকে কভিড-১৯ মহামারী দূরীকরণে তাঁর অবদান অনেকখানি বলে বোদ্ধামহলের বিশ্বাস। মহমারী কভিড-১৯-এর সময় কেবিনেট সেক্রেটারিকে দেয়া এক লেখায় নিজের পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন,
‘আমি ৩৫ বছর ধরে চচট্টগ্রাম শহরে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করছি। বর্তমান পরিস্িিতিতেও চেম্বার করছি, মানুষ কোথায় যাবে এই ভেবে। আমার পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘মাতৃ ও শিশুকল্যাণ সংস্া’ ১২ বছর ধরে কাজ করছে এবং এই সময়েও প্রতিদিন খোলা থাকে। নৈতিক দায়িত্ব মনে করে সরকারের উচ্চ পযার্য়ে ও বিভিন্ন স্তরে অনেক মেইল দিয়েছি এবং কিছু বাস্তবায়নও হয়েছে।’ … কোভিড-১৯ এমন এক আযাব-যার সাথে আগের কিছুরই তুলনা নেই। আমাদের মতো দেশে ভেন্টিলেশন ও আইসিউ নির্ভর চিকিৎসা দিয়ে মানুষকে চিকিৎসা করার চেষ্টা কিছুটা বোকামি। আমাদের না আছে এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, টেকনিক্যাল ইকুইপমেন্ট, আইসোলেশন ও অন্যান্য ফ্যাসিলিটি। এর চেয়ে জর“রি ভিত্তিতে জনসচেতনতা, কার্যকর লকডাউন, অক্সিজেন, সিলিন্ডার ও পালস্ অক্সিমিটারের প্রয়োজন অনেক বেশি।’ (করোনায় আমাদের শিক্ষা-পৃষ্ঠা : ৩২-৩৩)
একজন দক্ষ সংগঠক ও ব্যবস্াপক:
এ নিবন্ধের উদ্দেশ্য ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়াজেদের সাহিত্য ও কর্মজীবন সম্পর্কে পাঠকদের ধারণা দেয়া। কিন্ তার কর্ম ও পেশাগত দিকটা একটু বেশি ফোকাসড্ হয়েছে। আসলে তাঁর সাহিত্য জীবনটা পেশার সাথে ওতপ্রোৎভাবে যুক্ত। তিনি যা লিখেছেন তার সবটাই মা ও শিশুদের কল্যাণ নিয়ে। তিনি একজন দক্ষ সংগঠক এবং ব্যবস্াপকও বটে। বহু মৌলিক ও মানবীয় গুণের সমাবেশ ঘটেছে তাঁর জীবনে। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে গড়ে উঠে চট্টগ্রামের মেহেদীবাগে আধুনিক ও নৈতিকতা নির্ভর হাসপাতাল ‘ন্যাশনাল হাসপাতাল চট্টগ্রাম ও সিগমা ল্যাব লিমিটেড’। তিনি এই হাসপাতালের প্রথম ব্যবস্াপনা পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তাঁর হাতে প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের অভিজাত আবাসিক এলাকা চন্দ্রিমা। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান ‘মাতৃ ও শিশুকল্যাণ সংস্া’ও সভাপতি এবং প্রধান পরিচালকও তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নম্র. মৃদুভাষী, সহজ-সরল, অনাড়ম্বর ও বিলাসীতাহীন জীবন-যাপন করে থাকেন। সবশেষে এটা বলা বাহুল্য নয় যে, তাঁর মতো বিরলপ্রজ চিকিৎসক যদি দেশে আরও কিছু থাকতেন, তাহলে দেশের আমূল শিক্ষা এবং চিকিৎসা ব্যবস্া পাল্টে যেত বলে আমার মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক, ইদানীং লিটলম্যাগ

ফেইসবুকে নিউজটি শেয়ার করুন...

আপনার মন্তব্য লিখুন

Please Share This Post in Your Social Media

Archive

© All rights reserved © 2021 Dainiksomor.net
Design & Developed BY N Host BD